কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ শনাক্তকরণ, গর্ত ও চলাচলের পথ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দমন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইঁদুর সাধারণত রাতে বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে দিনের বেলায় ইঁদুর চোখে না পড়লেও এর বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। যেমন:
এসব লক্ষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ইঁদুরের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
ইঁদুর বিভিন্নভাবে ফসলের ক্ষতি করে। মাঠে থাকা ফসলের কাণ্ড ও শীষ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি জমির আইল ও বাঁধে গর্ত তৈরি করতে পারে। সংরক্ষিত ধান, গম ও অন্যান্য খাদ্যশস্যেও ইঁদুর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
এ ছাড়া গুদাম ও ঘরে ইঁদুরের চলাচলের কারণে খাদ্যদ্রব্য নষ্ট ও দূষিত হতে পারে। কৃষকের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে তাই মাঠ ও সংরক্ষণস্থল—উভয় জায়গাতেই ইঁদুর ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ইঁদুর দমনের প্রথম ধাপ হলো এর অবস্থান ও চলাচলের পথ শনাক্ত করা। জমির আইল, বাঁধ, গাছের গোড়া, ঘরের আশপাশ এবং গুদামের পাশে ইঁদুরের গর্ত খুঁজে দেখতে হবে। সক্রিয় গর্ত চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দমন কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়।
ইঁদুরের চলাচলের রাস্তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করা যায়। নতুন মাটি, মল, কাটা ফসল এবং চলাচলের দাগ ইঁদুরের সক্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
ইঁদুর দমনে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করা যায়। ইঁদুরের চলাচলের পথ বা গর্তের আশপাশে উপযুক্ত স্থানে ফাঁদ স্থাপন করলে ইঁদুর ধরা সম্ভব। নিয়মিত ফাঁদ পরীক্ষা করতে হবে এবং ধরা পড়া ইঁদুর যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে।
ফাঁদ স্থাপনের ক্ষেত্রে ইঁদুরের চলাচলের অভ্যাস ও অবস্থান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু মাঠে নয়, গুদাম ও বসতবাড়িতেও ইঁদুরের আক্রমণ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। খাদ্যশস্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ইঁদুর যাতে সহজে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রয়োজনে অনুমোদিত ইঁদুরনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইঁদুরনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করতে হবে। শিশু, গৃহপালিত প্রাণী এবং অন্যান্য প্রাণী যাতে বিষটোপের সংস্পর্শে না আসে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
রাসায়নিক ইঁদুরনাশক ব্যবহারের আগে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
ইঁদুর একটি জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজেই চলে যেতে পারে। তাই একজন কৃষক একা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে একই এলাকার কৃষকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে ইঁদুর দমন করা বেশি কার্যকর হতে পারে। একই সময়ে আশপাশের জমি, আইল, বাঁধ ও গুদাম এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ইঁদুরের পুনরায় বিস্তারের সুযোগ কমে।
ইঁদুর ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, গর্ত শনাক্তকরণ, ফাঁদ ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত দমন পদ্ধতি প্রয়োগ—সবগুলো বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা উচিত।
ইঁদুর ছোট প্রাণী হলেও কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সংরক্ষণে এর ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তাই ইঁদুরের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, গর্ত ও চলাচলের পথ শনাক্তকরণ, ফাঁদ ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত দমন পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে ইঁদুরের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ফসল রক্ষায় ইঁদুর দমন হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সমন্বিত।
তথ্যসূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), ইঁদুর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্দেশিকা।